সাধারণ অ্যাজমা বা ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার মতো নয়, কার্ডিয়াক অ্যাজমা মূলত হৃদরোগের কারণে ফুসফুসে পানি জমার ফলে দেখা দেয়। এটি শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং হুইজিংয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ অ্যাজমায় ধুলো, ধোঁয়া বা অন্যান্য উত্তেজক উপাদান শ্বাসনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যেখানে কার্ডিয়াক অ্যাজমায় মূল সমস্যা হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদরোগের চিকিৎসা ও ঔষধের মাধ্যমে কার্ডিয়াক অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।কার্ডিয়াক এবং ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার মধ্যে পার্থক্য: ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, যেখানে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে প্রদাহিত হয়। এটি সাধারণত ধুলো, ধোঁয়া বা অন্যান্য উত্তেজক পদার্থ শ্বাস নিলে সৃষ্টি হয়। কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যাজমা ফুসফুসে পানি জমার কারণে হয়। এটি মূলত বাম দিকের হৃদযন্ত্রের সমস্যা ফলে ফুসফুসে উচ্চ রক্তচাপের কারণে সৃষ্টি হয়। কার্ডিয়াক অ্যাজমা মূলত সংক্রামক হৃদরোগ, বিশেষ করে কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যায়। হৃদরোগের অবনতির ফলে সামান্য পরিশ্রমেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।ঝুঁকি: চিকিৎসকরা কার্ডিয়াক অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন বেশকিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
হৃদপিণ্ডের অসুস্থ হার্ট ভালভ
এঞ্জাইনা বা বুকে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাক
আরও পড়ুন: নীরব ঘাতক ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, জানুন লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়
কার্ডিয়াক অ্যাজমার লক্ষণ: অনেকে কার্ডিয়াক অ্যাজমার লক্ষণ না জানার কারণে রোগে ভুগলেও সঠিক চিকিৎসা পান না। এমনকি তারা চিকিৎসকের কাছে গিয়েও সঠিক তথ্য দিতে পারেন না। তাই এ বিষয়ে সাবধান করেছেন চিকিৎসকরা। তারা কার্ডিয়াক অ্যাজমার বেশ কিছু উল্লিখিত লক্ষণ জানিয়েছেন। এগুলো হলো:
রাতে ঘুমের পর হঠাৎ শ্বাসকষ্টে জেগে ওঠা
হুইজিং বা সিসাকার আওয়াজ
শুকনো বা শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি
কাশির সঙ্গে রক্ত
পরিচর্যা ও চিকিৎসা: কার্ডিয়াক অ্যাজমার চিকিৎসা সাধারণ অ্যাজমা থেকে আলাদা। এর মধ্যে রয়েছে:
নিয়মিত ব্যায়াম
কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন
ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর
বাইভেন্ট্রিকুলার পেসমেকার
লেফট ভেন্ট্রিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইস
প্রতিরোধ ও জীবনধারাকার্ডিয়াক অ্যাজমা প্রতিরোধে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও মাদক পরিহার প্রয়োজন। কার্ডিয়াক অ্যাজমা হৃদরোগের কারণ হয় এবং এটা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়। তবে জীবনধারার পরিবর্তন ও ঔষধ ব্যবহারের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। মনে রাখতে হবে, কার্ডিয়াক অ্যাজমা শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, এটি হৃদরোগের একটি লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
Post a Comment