Top News

এআই দিয়ে শাড়ি-স্যুট পরা ছবি বানাচ্ছেন? জানুন যে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে

 



বর্তমান যুগে প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা, অভ্যাস, এমনকি বিনোদনের ধরনও বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন শুধু গবেষণার বিষয় নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে।স্মার্টফোনে ছবি এডিট করা থেকে শুরু করে ভিডিও বানানো পর্যন্ত সবখানেই এআই ব্যবহার হচ্ছে। সম্প্রতি এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে— মানুষ তাদের নিজের বা অন্যের ছবি এআই ব্যবহার করে শাড়ি কিংবা স্যুট পরা অবস্থায় তৈরি করছে। প্রথমে বিষয়টি মজার বা নিরীহ মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বিপদ।অনেকে হয়তো ভেবেই দেখেন না যে, এই ধরনের ছবি বানানোর পর তা কোথায় ব্যবহার হতে পারে। কারও নিজের শখ মেটানোর জন্য তৈরি করা ছবিও কখনো কখনো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একবার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তখন সেই ছবিকে কে, কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটি আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, এমন ছবি দিয়ে ভুয়া প্রোফাইল বানানো হয়, ব্ল্যাকমেইল করা হয় বা মানহানি করার চেষ্টা করা হয়।কয়েক মাস আগে ভারতের মুম্বাইয়ে এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, তার ফেসবুক প্রোফাইল ছবি এআই ব্যবহার করে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। সেই ছবিতে তাকে এমন পোশাকে দেখানো হয়, যেটি তিনি কখনো পরেননি। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন এবং পরিবারেও চাপের মুখে পড়েন। একইভাবে বাংলাদেশেরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী জানিয়েছিলেন, তাদের সাধারণ ছবি এডিট করে ভিন্ন পোশাকে সাজিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বিষয়টি নিছক বিনোদন নয়, বরং এক ভয়ঙ্কর সামাজিক সমস্যা হয়ে উঠছে।


এআই ছবি তৈরি করার আরেকটি বড় বিপদ হলো আসল আর নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে যাওয়া। একজন নারী হয়তো কখনো এমন পোশাকে ছবি তোলেননি, কিন্তু এআই ব্যবহার করে কয়েক মিনিটেই তাকে শাড়ি বা অন্য কোনো পোশাকে সাজিয়ে দেওয়া সম্ভব। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রেও একইভাবে স্যুট পরা কিংবা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়। এভাবে তৈরি ছবি অনেক সময় এতটাই বাস্তব মনে হয় যে, সাধারণ চোখে বোঝা যায় না এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। এর ফলে মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করে কাউকে ফাঁসানো, সম্পর্ক নষ্ট করা বা সম্মানহানি করার মতো ঘটনা ঘটতে পারেসব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একটি মজার খেলা নয়, বরং গভীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সচেতন হওয়া এখনই জরুরি। মজার ছলে হলেও নিজের বা অন্যের ছবি এআই দিয়ে এমনভাবে বানানো থেকে বিরত থাকা উচিত। কারও অনুমতি ছাড়া তার ছবি ব্যবহার করে শাড়ি, স্যুট বা অন্য পোশাক পরা অবয়ব তৈরি করা শুধু অনৈতিকই নয়, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।


প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত সৃজনশীল কাজে, মানুষের জীবন সহজ করতে, আনন্দ বাড়াতে। কিন্তু যদি সেই প্রযুক্তি দিয়ে অন্যের ক্ষতি হয়, তবে তা সমাজের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইন্টারনেটে একবার কিছু আপলোড হলে তা চিরদিনের মতো থেকে যায়। তাই যেকোনো কাজ করার আগে ভালোভাবে ভাবা উচিত, বিশেষ করে যখন বিষয়টি নিজের কিংবা অন্যের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।।

Countdown Timer

Post a Comment

Previous Post Next Post