আমাদের শরীরের বিষাক্ত উপাদান ফিল্টার করার প্রধান অঙ্গ হলো কিডনি। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে বিষাক্ত উপাদান রক্তে জমা হতে শুরু করে এবং শরীরে নানা বিপদের সংকেত দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে পারলে কিডনির বড় ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।কিডনি খারাপের প্রধান ৮টি সতর্ক সংকেত
1. ঘুমের ব্যাঘাত
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে টক্সিন জমে যায়, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে। এর ফলে ঘুম আসতে সমস্যা হয় বা স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দিতে পারে।
2. ঘন ঘন প্রদিনে বা রাতে হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে সেটি কিডনির সমস্যা হতে পারে। ফিল্টার দুর্বল হয়ে গেলে অতিরিক্ত তরল ও বর্জ্য বের করতে না পেরে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয়।
3. ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থ হলে শরীরে বিষ জমে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অলসতা ও মনোমনোযোগের অভাব দেখা দেয়। প্রায়ই রক্তাল্পতাও হয়।
4. প্রস্রাবে রপ্রস্রাবে গোলাপি বা বাদামী রঙ দেখা গেলে তা কিডনির অভ্যন্তরীণ ক্ষতি, পাথর, সংক্রমণ বা টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।5. চোখের চারপাশে ফোলাভাব
প্রস্রাবে প্রোটিন লিক হলে চোখের নিচে স্থায়ী ফোলাভাব দেখা দেয়। এটি কিডনি ফিল্টার দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট সংকে6. গোড়ালি ও পায়ে ফোলাভাব
কিডনি কাজ না করলে শরীরে সোডিয়াম ও তরল জমে গোড়ালি, পা বা হাতে ফোলাভাব হয়। এটি হৃদরোগ বা লিভারের সমস্যার সাথেও যুক্ত থাকতে পারে।
7. পেশীতে খিঁচুনি
কিডনির ব্যর্থতা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করে। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম বা ফসফরাসের ঘাটতি পেশীতে টান ও ব্যথার কারণ হয়।
8. ক্ষুধামন্দা ও বমি বমি ভাব (অনেক সময় এ উপসর্গটিও দেখা যায়)
রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমে গেলে ক্ষুধা কমে যায়, মুখে অরুচি বা বমিভাব হয়। দীর্ঘমেয়াদি হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
সতর্কতা
যদি এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন থাকে, অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত।

Post a Comment