আলঝেইমার রোগের কারণে ধারাবাহিকভাবে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। মজার ব্যাপার হল, আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত রোগীরা দূর অতীতের ঘটনা মনে রাখতে পারে কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি মনে রাখতে অসুবিধা হয়। এক যুগ ধরে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন করে আসছিলেন কেন পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি বেশি? এবার লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকদের এক নতুন আবিষ্কার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিয়েছে।গবেষণায় দেখা গেছে, আলঝেইমারে আক্রান্ত নারীদের রক্তে অসম্পৃক্ত (অ্যানস্যাচুরেটেড) লিপিড বা ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকে এবং সম্পৃক্ত (স্যাচুরেটেড) লিপিডের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে এ ধরণের পরিবর্তন ধরা পড়েনি। গবেষকরা বলছেন, এটাই হতে পারে আলঝেইমারে নারীদের ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ।ড. ক্রিস্টিনা লেগিদো-কুইগলি নেতৃত্বাধীন গবেষক দল ২৬৮ ধরনের আলাদা লিপিড পরীক্ষা করেছেন। তাঁরা স্বাস্থ্যবান, হালকা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত এবং আলঝেইমার রোগীদের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। তাতে দেখা যায়, নারীদের শরীরে ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ অসম্পৃক্ত লিপিডের ঘাটতি রয়েছে। আর এ লিপিডগুলো মস্তিষ্কের কোষ ঝিল্লিকে নমনীয় রাখে এবং স্নায়ুর সঠিক কাজকর্মে সহায়তা করে।
যেসব নারীর অসম্পৃক্ত লিপিডের মাত্রা কম ছিল, তাঁদের স্মৃতিভ্রংশের মাত্রা তত বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং কোষ ক্ষয়ের সাথেও লিপিড ঘাটতির সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকরা এ তথ্য পুরুষদের ক্ষেত্রে পাননি।
ড. কুইগলি বলেন, “আমাদের গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, খাদ্যতালিকায় ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি নারীদের আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দরকার।” তিনি নারীদের নিয়মিত ফ্যাটি ফিশ (যেমন সালমন, সার্ডিন) বা ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রে আলঝেইমারে আক্রান্ত দুই-তৃতীয়াংশই নারী। জিনগত ঝুঁকি (যেমন APOE ε4 জিন) নিয়েও গবেষকরা বিবেচনা করেছেন। কিন্তু খাদ্যসংক্রান্ত লিপিড পরিবর্তনের প্রভাব সেখানেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
আগামী গবেষণাগুলোতে দেখা হবে, খাদ্যতালিকায় ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড যোগ করলে নারীদের আলঝেইমারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব কি না। এখন পর্যন্ত তথ্যগুলো ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে, তাই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীতে পরীক্ষা করে বিষয়টি আরও নিশ্চিত করা হবে।দেন।

Post a Comment