Top News

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: জানুন উপসর্গ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের কার্যকর উপায়

 বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌রোগ এখন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলকে হৃদ্‌রোগের মূল ঝুঁকি হিসেবে দেখে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বাড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিকেমিয়া।ইউরোপীয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (ESC) সম্প্রতি এক বিস্তৃত পর্যালোচনায় জানিয়েছে, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে ধমনীর অভ্যন্তরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে যায়, যা রক্তনালীর দেয়ালে ক্ষতি করে। এর ফলেই ধমনীর মধ্যে চর্বি জমা (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) ত্বরান্বিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


ইউরিক অ্যাসিড মূলত পিউরিন নামক উপাদান ভেঙে তৈরি হয়, যা অনেক খাবারে থাকে। সাধারণত কিডনি ও অন্ত্রের মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন শরীরে এর মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে যায়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ৬.০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৭.০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি হলে, তখন সেটি শরীরে বিষাক্ত প্রভাব ফেলতে শুরু করে।


উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের উপঅতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড প্রায়শই নিঃশব্দ ঘাতকের মতো কাজ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কোনো উপসর্গ ছাড়াই বাড়তে থাকে। তবে কিছু স্পষ্ট সংকেতও দেখা যায়, যেমন:


গাউট বা বাতের ব্যথা: হঠাৎ করে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, বিশেষত পায়ের বড় আঙুলে। গোড়ালি, হাঁটু, কবজি ও আঙুলেও এ ব্যথা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত স্থানে লালচে ভাব, ফোলা ও গরম অনুভূত হয়।


জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা দীর্ঘ সময় স্থির থাকার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। এই অস্বস্তি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।


কিডনিতে পাথর: কোমর বা পিঠে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, বমিভাব, বারবার প্রস্রাবের চাপ বা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হতে পারে।


অন্যান্য লক্ষণ: জয়েন্টে ঝিনঝিন ভাব, হালকা ফোলা বা অস্বস্তি, যা সবসময় ব্যথার সঙ্গে নাও থাকতে পারে।


উচ্চ ইউরিক অ্যাসিআধুনিক গবেষণা বলছে, ইউরিক অ্যাসিড শুধু বাত বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি নয়, বরং সরাসরি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য হুমকি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে:


করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে হার্ট ফেইলিউর হতে পারে।


উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস আরও জটিল আকার নেয়।


দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।


ইতালির বিখ্যাত URRAH বহুকেন্দ্রিক গবেষণায় ২০ হাজারেরও বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা প্রতি ১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বাড়লেই হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।


প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়


উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করা সম্পূর্ণ সম্ভব, তবে এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়ম মেনে জীবনযাপনই হলো প্রাখাদ্য নিয়ন্ত্রণ: লাল মাংস, কলিজা, সামুদ্রিক খাবারের মতো উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার সীমিত করতে হবে।


চিনি এড়ানো: ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ সফট ড্রিঙ্ক ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।


পর্যাপ্ত পানি পান: প্রচুর পানি পান করলে কিডনি ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা পায়।


অ্যালকোহল কমানো: বিশেষ করে বিয়ার, হুইস্কি ও ভদকা ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়, তাই এগুলো এড়ানো জরুরি।


ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়, তাই নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি।


অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।


নিয়মিত পরীক্ষা: পরিবারের ইতিহাস থাকলে বা আগে গাউট কিংবা কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।



রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। এটি কেবল বাতের ব্যথা বা কিডনির সমস্যা নয়, বরং সরাসরি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা হার্ট ও কিডনিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে পারে।থমিক প্রতিরোধ।ডের ঝুঁকিসর্গ

Countdown Timer

Post a Comment

Previous Post Next Post